শীর্ষা'র কবিতা

শীর্ষা'র কবিতা

 

১

হাত বাড়িয়ে চাঁদ ধরতে যাওয়া পাগলটি জানে না চাঁদের কোনো ইচ্ছাশক্তি নেই। প্রবল অনিচ্ছাশক্তি চাঁদকে জিতিয়ে দেয় বরাবর।

 ২

শাস্তির কথা ভাবতে ভাবতে মাকড়সাটি জাল বুনে ফেলল। স্বামী-সন্তান-পরিবার সবাইকে বন্দী করবে ভেবে লালার ক্ষরণে ফুঁ দিয়েই চলেছে। এখন মাকড়সাটির অবস্থান জালের ঠিক মাঝখানে।

 ৩

পৃথিবী গোল না চৌকো এই নিয়ে দুটি লোকের মধ্যে তর্ক শুরু হয়েছে। ওরা গোল এবং চৌকোর সংজ্ঞা ও প্রয়োজনীয়তা বোঝাচ্ছে একে অপরকে। ওদের দক্ষতায় মুগ্ধ হয়ে নিউটন স্যার টুপ্ করে একটি আপেল ছুঁড়ে মারলেন।  

 ৪

ভাবনার মধ্যে যে পথটা আঁকা আছে, পাখিটি সেখানে কোন নুড়ি পাথর দেখতে পায়নি। পথে চলতে চলতে নুড়িপাথরের কর গুনে সে জানতে পারল ভাবনা একটি অন্ধ ভিখারির চশমামাত্র।

 ৫

চাঁদ নাম যে সাদা শাঁখা বিক্রি করে নাম কিনেছে আকাশ, তার পায়ের কাছে সধবার ভিড় লেগে থাকে। চাঁদ কিনে বাড়ি ফিরে সধবা দ্যাখে গাছপাথরহীন ঠানদিদি চাঁদ সহযোগে পূর্ণিমার দুধ-খই খেতে বসেছে। আর কৃতজ্ঞতাহীন সাদাটে সোহাগ সধবা মালিককে ছেড়ে গিয়ে বিধবার গায়ে মাথায় চিকচিক করছে চিরন্তন।

 ৬

মৃতমানুষের বাড়িতে কালো পোশাকের আনাগোনা দেখে এক বৈজ্ঞানিক রঙের গুরুত্ব খুঁজতে শুরু করলেন। সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার শেষে বাড়ি ফেরার পথে বৈজ্ঞানিকটি দেখলেন – একটি কালো বেড়াল। রাস্তা পার হবে কি হবে না – গালে হাত দিয়ে ভাবতে বসেছে।