নয়ন রায়ের কবিতা

নয়ন রায়ের কবিতা


মহাকুম্ভে 


মহা মহাকুম্ভে নয়নও এসেছিল মেখে নিতে
জীবন, আধ্যাত্মিক উপলব্ধির আলোকে কিছু
অমোঘ অমৃত! কোটি কোটি নরনারী আবেগেই
নশ্বর মানবদেহের কতটুকু বাড়ে আয়ুধ...!
 
সত্য শিব সনাতনী হিন্দুদের উপাস্য হিসাবে
পুজো পান! মিলনের শিব রাতে ডমরু বাজান?
প্রয়াগে মুড়িয়ে মাথা অহং ঘোচাতে থাকি নিজে
পিতা মাতা ও মরার পর, গঙ্গা না পাওয়া দিদি!
 
তাঁকে অমৃত কুম্ভের জলদান করার সুযোগ
কাজ লাগাই এভাবে। মাতৃসমা বড়দিদি তুমি
অমৃতলোকের পথে এগিয়ে যাও! সব কষ্টের
মায়াজাল ছিঁড়ে। ওঁ শান্তি ওঁ শান্তি উচ্চারণ করি…
 
কান্না সব ধুয়ে দেয় আমার ঐ জলাঞ্জলি নদী
নির্মল করুক নিজের স্বভাবে আর আমি সুখে দুখে...! 



সারল্য 


কোনো অভিযোগ নেই!
সারারাত আত্মকল্পে আত্মরতি লিখে রাখি
পথের সারল্যে পথ মুখোমুখি...
অভিযানে আলো ও আঁধার সহজাত
 
বাঁশি বাজলেই সব শেষ! কালের রাখাল তবু জেগে থাকে...
 
মুগ্ধতার নীলে পাখিও মরমিয়া ঢেউ হয় গীত হয় গেরস্থালি!
আলোকভাসান পাঠ নেয় প্রতিবেশী ওমে আমাদের ক্রোধ!
 
আমার সারল্য মানে বোকামি ভাবো তুমি চিরকাল...!



কার্তিক


কার্তিকের পুজো! কুমোর পাড়ায় বনমালী পাল
যাত্রা করে রংচং মেখে। বউকে দেখায়- বলে
বল খেপি মানায়েছে কেমন তাহলে অসুর সেজেছে।
বনমালী! কখনও কখনও কালো দারোগার পাঠ।
 
ঘোড়া নাচে ঝন্টুকুমার। ভাসানের দিনে
তারে তাক তেরে তাক হে হে দে ছুট
ঘোড়া নাচে সারা গ্রাম জুড়ে, মাঝ রাতে ভাসানও
দেয় আর বলে আসছে বছর আবার হবে।
 
কেউ কেউ লুকিয়ে লুকিয়ে রেখে আসে কুমার
কার্তি দুয়ারে দুয়ারে। সাথে চিঠি লেখা পুজো দাও পুজো
মনস্কাম পূর্ণ হবে। ঘরে আসুক নতুন কেতো কেতো
মানে কার্তিক আইবুড়িদের প্রেমিক চিরকাল



করমুক্ত


পাতি কেওটের মাছেরা পাতির আত্মার সঙ্গে ঘোরে ফেরে
কার পুকুরের থেকে কার পুকুরে ছাড়বে তারা বুঝে গেছে এত দিনে।
সারা বিকেল পাড়ায় মাছ বেচে নাতিকে স্কুলে পড়ায় গাঁয়ের মাস্টারের কাছে।
কুপির আলোয় আলোকিত হয় নাতির মুখ। পাতি কেওটের স্বপ্ন ভাগ করে নেয়
ঘোষপুকুর শোল। নাতি এখন গাঁয়ের প্রধান। ডিমপোনা বিলোয় কেওট পাড়ায়।
মাছের সংসারে ষোলসুখ...
 
সহজিয়া পাতি কেওটের জীবনটাও একদিন মাছ হয়ে ভেসে ওঠে হঠাৎ,
নাতিও জানতে পারেনি ঘুণাক্ষরে...।



অনুভবে নীল

 
হয়তো হঠাৎ আমি চলে যাব, তোমার অলক্ষ্যে
এত অপমান এত গঞ্জনাতে সব ছাড়িয়েই...!
 
হাসির শহর থেকে অনেকটা দূরে, বহুদূরে
নিশ্চিন্তপুরের দিকে! তখন আমার খুঁজে নিও
যে কথা তোমাকে সরাসরি বলিনি, সে কথা।
বুঝতে পারবে! কেন শুধু অপমান অনুদিত...
 
‘নিয়তজীবন যুদ্ধ বলিনি কাউকে নিরিবিলি
লিখে গেছি। মিলিয়ে দেখবে কারও সাথে মেলে না।
একটা নিজস্ব ভঙ্গি আছে। সাদামাটা জীবনও
অসামান্য হয় তখন উপলব্ধি করবে! দেখো।
 
প্রেমও প্রবাহ আনন্দে কাটিয়ে গেলাম। দুঃখকে
নির্বাচন আমি তো করিনি। উপহাস করে গেছি!
দুঃখকে ফেরি করে যারা তারা তো নিম্নবর্গেরই
সহানুভূতি পেতেই বাঁচে। ক্রীতদাস হয়ে থাকে!
 
আমার লেখাটি পোড়ো! বৈভবহীন জীবন নয়
দেখো কত মাণিক্য লুকনো ছিল অক্ষরে অক্ষরে।
একটু লিখতে দাও!  নিজের লেখাটি লিখে যাই
এ লেখাই ব্রহ্মবীজে মহীরুহ হবে...! বলে যাই...



আনন্দই ঈশ্বর


সুখশান্তি কে কাহাকে দেয়? আনন্দ তো
 নিজেকেই খুঁজে নিতে হয় চিরকাল জানি
আনন্দ হে তোমার সাথেই সখ্য করি রোজ
চৈতন্য জাগ্রত করি আনন্দে ঈশ্বর মাখি…



চর্যাপদ
 
আয় নেই সঙ্গতিহীনও তবুও নেশার ঘোর
সোনার সোহাগে ছাই ভস্ম ভূতনাথ লিখো
কী লিখো!  কাহাতক পদ্যের পৃথিবী ছোঁয়?
স্ত্রীর গঞ্জনা প্রত্যহ! তবু তুমি...  এতকাল 
 
ভুজ্যপত্রে জমা হয় কথার পাহাড়! হাড়ে
কালি পড়ে তোমারও! চর্যাপদ হয়ে বাঁচে...



আলোগান


আলোগুলি ফুটে ওঠে কুসুম কুসুম মোহে
আমার হৃদয় ক্ষতে! নদীও নাব্যতা খোঁজে
আলোড়িত আন্দোলন শরীরে দহন মাখা
কবিতার বীজ হয় মাঝরাতে ঘুমহীন পাখি...
 
শব্দগন্ধে জেগে ওঠে চাঁদ মায়াবি ইশারা
মেখেও নেয় 
কলমে! তুমি তবু নির্বিকার



সোজাকথা


না হাত চিরে লিখিনি আমি তোর নামটা রাখী
প্রতিশ্রুতিও দিইনি কিছু সহজ ভাষা লিখি
ইচ্ছে যদি আসতে হয় মিষ্টি হাসিমুখে
কথা দিলাম নিবিড় করে রাখবো আমি তোকে…



নাগা সন্ন্যাসিনী


নাগা সাধুমাতা ময়ূর পালক ঝাড়ু দিয়ে ঝেড়ে
দেন জীবনের বিষ! লোক চক্ষুতে স্বল্প বসনা
জীবনের লেন দেন বহমান এ নারীও নদী
হয় অনায়াস। আলো আলো বেঁচে থাকা পৃথিবীতে।




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন