জাতিস্মর-এর কবিতা

জাতিস্মর-এর কবিতা


 
বিশ্বাসযোগ্য দৃশ্যগুলি

 
অদ্ভুত একটা গাছের ডালপালা জেগে ওঠে ঘুমের মধ্যে। তীব্রভাবে কিছু বিশ্বাস হয় না আর। সবই পাতার বৃদ্ধ হওয়ার মত হলুদাভ মনে হয়। কোনো কোনোদিন ঐ গাছের মধ্যে একটা লাল ঢ্যাঁড়া কেটে আসি। কোনো কোনোদিন একটা পাখির মনস্তত্ত্ব সাজিয়ে দেখতে ইচ্ছে হয় বিভিন্ন ডালে ডালে বসিয়ে। কোনো দৃশ্য আমি মাথা থেকে খুঁড়ে বার করিনা--- দৃশ্য আমাকে খোঁড়ে, নিরন্তর খোঁড়ে--- আমাকে ছুটিয়ে বেড়ায় এ ডাল থেকে সে ডাল, এক পাখিরূপ থেকে অন্য পাখিরূপে-- কখনো সামান্য বিশ্বাস থেকে তীব্র বিশ্বাস-- কখনো লাল ঢ্যাঁড়া থেকে লালঘুমের দিকে, ছুটিয়ে মারে চতুর্দিকে--- আমি কখনোই প্রকৃত ঘুম অথবা প্রকৃত গাছ হয়ে উঠতে পারছি না, অনন্ত শরীর হয়ে উঠছে মন, অনন্ত মন...শরীর...


 
তুলো কিংবা রুমাল

 
নিজস্ব অনুভূতির কাছে কিছু অপ্রতুল বালুচর। এত পায়ের ছাপ কেন পেরিয়ে যাচ্ছ ছায়া? অসামান্য বাঁশি তুমি বাজাচ্ছ না এখনও--- এ পোড়া দিন শেষ হয়ে আসছে--- এত বীজ, এত পুরোনো শস্য তোমার কপাল জুড়ে লেখা হচ্ছে, দেখো, ছুরির অভিমুখ পরিবর্তন হচ্ছে ধীরে ধীরে--- সুর অতিমাত্রায় লাল হওয়ার আগে এসো ছায়া, এসো বালি ঝেড়ে ফেলে রক্তাক্ত করো পা--- তোমার রক্ত মুছিয়ে দেওয়ার জন্য ছড়ে আঙুল কেটে ফেলছে এক শষ্যসম্পূর্ণা ভায়োলিনবাদক...


 
পদচিহ্ন: অবিশ্বাস নাকি মৃত্যু
 
নিজের থেকে সরে যাচ্ছি অনেক দূরে। অনেক পদ্মকুঁড়ি চোখ, শ্যাওলা ঘাটের পিছল সমস্যা পেরিয়ে, লম্বা বেণী ও অভিমানের গিঁট খুলতে খুলতে কোন একটা নীল নিসর্গের অভিমুখে গমন--- সত্য মিথ্যা ভয় আপাত ভয় সংসার আপাত সংসার ক্ষতের উপর গজানো মাংস মাংসের উপর তৈরি নতুন ক্ষত নিঃসঙ্গ লাইটপোস্ট সব কেমন আমার এক একটা ফেলে আসা পদচিহ্নের সঙ্গে সঙ্গে প্রশস্তি পেরিয়ে আরও নোনাভাব আরও লাল হয়ে যাওয়া জলের দিকে উপরোধ অনুরোধ টানছে। আমি ফুরিয়ে যাচ্ছি না কোনো পদচিহ্নে, আমার ছায়া ফুরোতে ফুরোতে অবিশ্বস্ত ছুরির বিশ্বস্ত ধারালো বাঁকা হাসি...