হারাধন বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবিতা

হারাধন বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবিতা

অন লাইন

টাকার কয়েন নোট   
এটিএম ব্যাঙ্ক লেনদেন
দোকানের সাবেকি সতর্কবাণী
আজ নগদ কাল ধার’
নিখোঁজ সবাই
 
অন লাইনে চলবে সমস্ত খোরাক

 

অসহায় 

কান থাকলেই যায় না শোনা
চোখ থাকলেও দেখা,
ঘরভর্তি লোক থাকলেও
বুড়ো বুড়ি একা।
 
মুখ থাকলেও যায় না বলা
হাত থাকতেও ঠুঁটো,
পা আছে তাও হাঁটায় লাগাম
বুড়ো বুড়ি দুটো।
 
কোমর আছে জোর কোথা পায়
বেঁকেছে শিরদাঁড়া,
সবার পেটে মুখরোচক
বুড়ো বুড়ি ছাড়া।
 
 
শিশু কিশোর যুবারা সব
কত বুদ্ধি খাটায়,
আগে পরের চিন্তা থাকে
বুড়ো বুড়ির মাথায়

 

আত্মকথন

জীবন শরীরকে বললো, ‘তুই থাকবি তো থাক্। আমি চললুম।’ শরীর বললো, ‘তুই না থাকলে  উলঙ্গ করে আমাকে লাঠিপেটা করে পুড়িয়ে মারবে, ওরা। তুই থাক্।’ জীবন বললো, ‘আর কতদিন তোকে আগলে রাখবো, বল! আরও কেউ আমার জন্য অপেক্ষা করছে যে। আসার জন্য অপেক্ষা করছে। উৎকণ্ঠায় আছে। শরীর বললো, দ্যাখ, এখানেও সব উৎকণ্ঠায়।’
জীবন বললো, ‘উৎকণ্ঠা আমার দোসর। তোর কেউ না

 

সুখাসুখ

যেখানে বন্ধুর ভিড় সেখানেই সুখ
 
চার দেয়ালের মাঝে
অসুখেরা পেতে আছে বুক

 

সান্ত্বনা

কুয়াশা ভরা এ মন যেটুকু রোদ্দুর
বিছায়ে দিয়েছো তুমি তাতে কদ্দুর
এগিয়ে এগিয়ে যাবো হিমেল হাওয়ায়
কখন ফাগুন আসে তার প্রতীক্ষায়
দিন গুনি।
 
মাঘীপূর্ণিমার চাঁদ জেগে ওঠে
তার কাছে শুনি আগমনী

 

বাংলা ক্যালেন্ডার

ফিরে এসো তুমি বাংলা তারিখ
বাঙালির ঘরে ঘরে,
নজর রেখেছি তাইতো এবার
বাংলা ক্যালেন্ডারে।
বাংলা মূখ্য ; ইংলিশ ও আছে
তারিখের নিচে নিচে,
ক্যালেন্ডার তো কিনেছি তখন
ভাবিনি তো আগে পিছে।
শহরের বাড়ি ঝাঁ চকচকে
টাইলস ও মার্বেল,
দেয়াল ঢেকেছে;  পেরেক কোথায়
মনে বাড়ে উদ্বেল।
কেন্নো যেমন গোঁটায় শরীর
লজ্জা কিম্বা ভয়ে,
ক্যালেন্ডারটি গাডার আটকে
টেবিলেই আছে শুয়ে।
 
চোখ থেকে বালি সরাও বাঙালি
আবেগ মান্ধাতার,
দেয়ালে না লিখে দাও হে টাঙাতে
বাংলা ক্যালেন্ডার

 

শ্রম

বিশ্রামেরও বিশ্রাম নেই
শ্রমে বিষ মিশিয়ে ওরা
মোরগের ডাকটুকুও শুনতে দেয় না
কারখানার ঘর্ঘর শব্দে হারিয়ে যায়
বায়সের কণ্ঠস্বর
 
মৃত্যু নেই এই গরলে
পুষ্ট হয় হাড় ও পাঁজর

 

সবিনয় নিবেদন

এই স্কুলে একটি মেয়ে পড়তো দিদিমণি
আমার তখন কলেজ-বয়স ব'লেই
আপনাকে ব'লতে পারিনি সে ছিল
আমার এই শহরের চতুঃসীমা
তার ডেস্কটি আমাকে দেবেন ম্যাডাম
 
কাঠের জিনিস পেলেই সে তার নাম লিখে রাখতো

 

গুপ্ত

চিত্র গুপ্তের গুপ্ত চিত্র
করতলে আঁকা
 
এখানেই গ্রহ দেখে
জ্যোতিষীর চোখ
 
হালের বোঁটা
গুপ্ত রাখে
চাষীর করতল

 

জম্মভাষা

হাসল্লবি করিস না
মানভুঁইয়া বলার মু থাকা চাই
লেইখবার দম থাকা চাই
কুইড়মালি বুঝিস!
 
দকড়কচ্যা ই মাটিতে
যে ভাক্কিগিলা জম্মেছ্যে
নার্সারিল্যাও উহার লাইগ পাবি নাঞ
 
জম্মিতে হবেক ইঠিনের গাঁয়ে

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন