রাজীব ঘাঁটীর কবিতা

রাজীব ঘাঁটীর কবিতা



যাপন পদাবলি

 

১.

ছাইপাশ ভাবছিলাম, ভালো ভাবতে ভয় পাই

অথচ কত সুন্দর হতে পারতো এ যাত্রাপথ

ছুটতে ছুটতে পেরিয়ে যেতাম মাঠ ঘাট চেনা পথ

একদিন এভাবেই অন্ধকার নেমে আসে পথে

 

জীবনের রঙ আঁকা হয় না কোনো ক্যানভাসে

অপেক্ষমাণ সময় প্রতিদিন নতুন গল্প সাজায়

বিবর্তনের ধারাবাহিকতায় বদলে যায় যাপন।

লিখে রাখি শুধু পূর্বপুরুষের অহংকার।

 

এ জীবন পরিসংখ্যানে গরমিল সব হিসাব

শুধু নিজেরটুকু বুঝে নিয়েই জীবনপাত।

 

২.

সবাই যেমন স্বপ্ন সাজায়, আমিও সাজিয়েছি

তারপর ভাটা পড়েছে কত সময় আবর্তে

সময়ের কাছে বন্দক রেখেছি বিশ্বাস

পরিচিত বর্ণমালার ডাক পেড়েছে প্রিয়জনেরা

 

অযাচিত জ্ঞান দিয়ে গেছে পরিচিত অনেকেই

প্রয়োজনে ডাকলে যারা আসেনি কোনদিন

যাপন বিন্যাসে কৃষকের কথা নেই কোথাও

অথচ খাদ্য ছাড়া সবটাই বৃথা জানি।

 

স্বল্প সুখের খোঁজে চোখে লোনা জল সহজেই

অথচ সমুদ্রের জলে জীবন মেলাতে পারি না।

 

৩.

অক্ষর সহবাসের পর দেহের গ্রন্থ জন্ম হয়

তারপর খুঁজে ফিরি অসহায় মানুষের কষ্ট

একদিন বিপদে বুক পেতে দিয়েছিল প্রতিবেশী

নাগরিক -স্বজন, এখন সৌজন্যহীন জীবন।

 

 আগুনের গল্পেরা পোড়ায় না, দগ্ধ হতে শেখায়

যন্ত্রণার নির্যাস থেকে বেরিয়ে আসে এক

অন্য যাপনের গল্প। অপেক্ষায় আছে

কোন সুবিধাবাদী সবসময়, যাপন সতর্ক হোক।

 

সব ছবি অ্যালবামের হয় না

কোন কোন ছবি হৃদয়ে গেঁথে রাখতে হয়।

 

 

৪.

এখন আর ঠিকানার দরকার হয় না।

মোবাইল নম্বরেই কাজ চলে যায়।

আজকাল বাড়িতে আসার প্রয়োজন মনে

করে না অতি প্রিয়জনেরাও। অনলাইন

স্ট্যাটাস আপডেট থাকলেই হল। এভাবেই

বেঁচে থাকতে হয়, ভালো থাকা যায় না।

 

যাপন পদ্ধতি বদলে যাচ্ছে আমাদের

ভাবসম্প্রসারণের জীবন ক্রমশঃ ভাবার্থে

আটকে যাচ্ছে। এ সময় বড়োই জ্বালাময়

এ সময় আশঙ্কার! এ যাপন বড়োই যান্ত্রিক।

 

 

৫.

হাসি কান্নায় সেজে ওঠা জীবনগুলো

এখন শুধুমাত্র লাভ - ক্ষতির হিসাব করে

আমরা ক্রমে ক্রমে ‘আমি’ তে রূপান্তরিত!

সবাই এক টুকরো স্বর্গ গড়তে চাইছি

 

ব্যপ্তি কমছে ছোট হচ্ছে আকাশ

হয়তো সব হারিয়ে যাবে, আবার নাও পারে

একদিন হয়তো নতুন করে কেউ লিখবে

নতুন কোন যাপনের বসবাসনামা।

 

সূর্য বেলায় সেই আলো আর উত্তাপে

আমরা নতুন দিনের গল্প লিখবো।

 

৬.

বেঁচে থাকাটাই যাপন কথা নয়,

যাপনের অনেক গল্প আনকোরা

সময়ের সুখ খুঁজে ফিরি রোজ

একদিন নতুন যাপনের গল্প লিখবো।

 

সুখের কথা বলে যাও অকপটে

শুধু সুখ চেয়ে বোসো না কোনদিন

দুঃখ সাজাতে জানলেই কাটবে প্রহর

সুখী জীবনের কোন উপাখ্যান লেখা হয়নি

 

৭.

সালোকসংশ্লেষ পদ্ধতি বদলায়নি গাছ,

তার ধর্ম নিয়েই সৃষ্টির সময় থেকে আজও

কথায় আছে “বোবার শত্রু নেই”

অথচ গাছের এত শত্রু কেন?

 

হাজার বছরের অপেক্ষা থাকলেও গাছ

বদলায়নি তার যাপন পদ্ধতি কিংবা বোবা থাকা

আমরা রোজ বদলাই, বদলাতে চাইও

অথচ নিজেদের শোধরাতে ভুল করি শুধু।

 

এ জীবন অক্সিজেনের হিসাব করে, অথচ

গাছের হিসাব রাখে না কোন বুদ্ধিমান!

যাপন বদলানোর চেয়ে নিজের বদল জরুরি

অথচ দোষারোপের জীবনযাত্রা আমাদের!

 

৮.

জীবনের সব পরিসংখ্যান হুবহু মেলে না

তুমি শুধু নিজ অঙ্কের হিসাব বুঝে নাও

এখানে লাভের অঙ্ক যেন ঠিক থাকে,

তা নাহলে প্রতিদিন ব্যর্থ জীবনের দিনলিপি লিখবে।

 

যোগ করতে শিখলে বিয়োগের গুরুত্ব বুঝবে,

খামখেয়ালি হয়ে লাভ নেই। গিভ অ্যান্ড টেক

না হলে কেউ খবর রাখে না আজকাল

আমিত্বের স্থায়িত্ব ক্ষণকাল, নয় কি?

 

৯.

বাবর, আকবর কিংবা ১৭০০, ১৮০০ খ্রীষ্টাব্দ

এসব ইতিহাসে থাক, নিউটনের সূত্র মেমরীতে

ধারণ করে বাস্তব জীবনে বাঁচতে হবে,

যাপন এটাই!

সব বিষয় জরুরি শুধু সিলেবাসে,

আসল ছবি অন্য!

 

হাততালি সবার জন্য থাকতেই পারে

শুধু বিশেষ পছন্দকে “সাবাশ” বলো।

 

১০.

বেঁচে থাকার অধিকার নেই, কারন আছে।

মৃত্যুর অজুহাত খুঁজতে হয় না আজকাল

মৃত্যু হঠাৎ আসে বজ্রপাতের মতো

তবুও আমাদের কত ভাবনা ভবিষ্যতের!

 

বর্তমান যেখানে ক্ষণস্থায়ী, অতীত সন্দেহে ভরা

সেখানে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিলাসিতা মাত্র!

 

এ সময় যাপনের কথা বলে, বাঁচা শেখায় না

লড়াই শিখতে হয় না এখন, প্রতিযোগিতার

বীভৎস সময়ে। পিছনে তাকালেই পিছিয়ে

পড়ার ভয়! তাই দৌড় শুধু সামনের দিকে!




 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন