সুবীর সরকার-এর কবিতা

সুবীর সরকার-এর কবিতা

 

পরিচিতি:

সুবীর সরকার. জন্ম 1970, 3 জানুয়ারি. নয়ের দশকে লিখতে আসা এ কবি উত্তরের লোকজীবনের সাথে জড়িয়ে আছেন তীব্র ভাবে. ত্রিশ বছরের বেশী সময় ধরে কবিতা, গদ্য সহ বিভিন্ন ধারায় অনায়াস যাতায়াত করেছেন. বাংলা ভাষার প্রায় সব কাগজে নিয়মিত লেখালিখি করেছেন, করছেন. 1996 সালে তাঁর প্রথম কবিতাবই প্রকাশিত হয় কবিতা পাক্ষিক থেকে. গুরুত্বপূর্ণ কবিতা ও গদ্যের বইগুলো- ধানবাড়ি গানবাড়ি, মাহুত বন্ধু রে, নির্বাচিত কবিতা, বিবাহ বাজনা, নাচঘর, উত্তরজনপদবৃত্তান্ত, মাতব্বর বৃত্তান্ত, ভাঙা সেতুর গান. পেশায় শিক্ষক এ কবি ভালোবাসেন রবিশস্যের খামার বাড়ি, সাদা ঘোড়া আর যৌথ যাপনে চাঁদের আলোয় কবিতা আড্ডা, লোকগানের আমেজ.

 

 

সাজঘরের কবিতা


১.

নষ্ট হয়ে যাচ্ছে দাঁতের ধার।

তাঁবুতে কুপির আলো, বইয়ের খোলা পাতা।

ড্রাগনের ছবিতে মাল্যদান শেষে শুরু হবে

                                       বিশেষ অধিবেশন


২.

আমরা গাইতে শুরু করি গান।

ঢুকতে শুরু করে নাচের দল।

চুল খোলা মেয়েরা অন্যমনস্ক হলে ভালো লাগে

                                                             না


৩.

জংলী হাতির দলে হরিণ ঢুকে পড়লে সক্রিয় হয়ে

                                      ওঠে গোপন ক্যামেরা

লং মার্চ শুরু হতেই

দৌড়তে থাকে কাদামাটির 

                                     পুতুল।


৪.

বস্তুত সব কিছুই রোমহর্ষক।

নদীতে ডুবে যাচ্ছে নারী।

শুকনো পাতার জঙ্গলে হলুদ রঙের

                                           ফুল।


৫.

হারিয়ে যাওয়া বেড়াল ফিরে এলে তার মাথায়

                                        পরিয়ে দেওয়া হয় টুপি

নীরবতার ভাষাকে অনুবাদ করতে গিয়ে

                                              খামারবাড়ি লিখি

ঘন হয়ে আসে সম্পর্ক।

খড়মের শব্দে দেখি জেগে উঠছে তোমার শীতল

                                                         চোখ


৬.

নূপুর হারিয়ে গেছে সেই শোকে আঠারো মাস তুই 

                                                            বিমনা

ধানক্ষেতের সামনে একটা বাড়ি।

অথবা বাড়ির সামনে ধানক্ষেত।

স্বপ্ন ভেঙে যায়।রুমাল ও পতাকা নিয়ে

                                            জলজঙ্গলে ঘুরি


৭.

সমস্ত পুতুল আজ সাজঘরে মজলিস বসায়।

প্রিয় কোন গান যখন ভাষান্তরে শুনি 

মনে হয় তরাই জঙ্গলে লণ্ঠন দুলে 

                                               উঠলো

যে ভাষায় মিছিল লিখি।

যে ভাষায় জনপদ লিখি।

সেই ভাষা নিবিড় হয়ে আসে বটবৃক্ষের ছায়ার

                                                             মত


৮.

বসন্ত উৎসবের গায়ে হেলান দিয়ে হেসে ওঠে মার্চ 

                                                         মাসের দুপুর

আমাদের সাদামাটা জীবন।

বারান্দা ও রাস্তা জুড়ে হাজার হাজার

                                                  পিচকারী।

বাতাসে আবির ওড়ে।

সর্বাঙ্গে আবির জড়িয়ে আমরা আবার গাইতে শুরু

                                                       করি গান     

 

৯.

ফাঁকা মাঠের ভেতর জোনাকি দেখেছো তুমি!

অন্ধকারে হলদে পাখির ফিসফিস।

দূরের নদীর গন্ধ,চিনি আর বাতাসার 

                                                 ক্যানভাস।


১০.

নূপুর হারিয়ে গেছে সেই শোকে আঠারো মাস তুই 

                                                            বিমনা

ধানক্ষেতের সামনে একটা বাড়ি।

অথবা বাড়ির সামনে ধানক্ষেত।

স্বপ্ন ভেঙে যায়।রুমাল ও পতাকা নিয়ে

                                            জলজঙ্গলে ঘুরি

 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন